ABN News

রাজ্যে আম আদমি পার্টির উল্লাস ভুরু কোঁচকাচ্ছে শাসকদলের?

রাজ্যে আম আদমি পার্টির উল্লাস ভুরু কোঁচকাচ্ছে শাসকদলের?

নিজস্ব প্রতিনিধি, এবিএন :- সম্প্রতি দিল্লি বিধানসভার নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর সাক্ষাৎকারে এক বরিষ্ঠ সাংবাদিককে আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছিলেন যে তিনি গত এক বছর ধরে মমতা ব্যানার্জির কাছে পরামর্শ নেন। যদিও নির্বাচনে বিপুল আসনে জয়লাভ করার পর কেজরিওয়াল সংবাদমাধ্যমগুলিকে এই সাফল্যের নেপথ্যে দিল্লিতে তাঁদের উন্নয়নমূলক কর্মসূচিকেই কারণ হিসাবে তুলে ধরেন। প্রসঙ্গত এবারের নির্বাচনে আপকে হারাতে খোদ প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিজেপির বহু সাংসদ-বিধায়ক ময়দানে নামেন। প্রসঙ্গত আপ দল নির্বাচনে সাফল্য পেতে নির্বাচনী কৌশলী প্রশান্ত কিশরের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তাঁর প্রদত্ত কৌশলেই এবারের নির্বাচনে তাঁদের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ছাড়া বিজেপির তোলা বিভিন্ন ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা করে ফাঁদে পা দেয়নি আপ। এবং সেই কারণে নির্বাচনের কিছুদিন আগে এনআরসি ও সি এ এ প্রভৃতি ইস্যুতে জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী দলগুলি ঐক্যমতে আসার চেষ্টা করলেও, তথাকথিত কোন নেতাকে দিল্লিতে নির্বাচন জেতার জন্য কিন্তু ব্যবহার করেনি। স্বভাবতই ঘনিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও দিল্লি নির্বাচনে আপ-এর মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখার জন্য আমন্ত্রণ পাননি মমতা ব্যানার্জি।

এদিকে দিল্লি জয়ের পর আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি দিল্লির মসনদে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বসতে চলেছেন ফের সেই অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এক্ষেত্রেও এখনো পর্যন্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আনুষ্ঠানিকভাবে ডাক পাননি বলে খবরে প্রকাশ। সূত্রের খবর অনুযায়ী, কেন্দ্র বিরোধী অন্য কোন দলের কোন নেতৃত্ব এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে এখনো পর্যন্ত ডাক পাননি। যদিও সংবাদ সংস্থার খবর জানাচ্ছে যে দিল্লি বিধানসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েছেন আপ-এর ঘোরতর বিরোধী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্বভাবতই রাজ্যজুড়ে জল্পনা চলেছে, নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতেও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ডাক পেলেন না কেন? যদিও এখনো প্রায় দুদিন সময় আছে হাতে। এরমধ্যে আমন্ত্রণ নিয়ে ঘটে যেতে পারে অনেক কিছুই। যদিও আপ দলের মুখপাত্রের কথা অনুযায়ী দিল্লির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আপ নাকি শুধুমাত্র দিল্লিবাসীকে চাইছে।

এদিকে এহেন পরিস্থিতিতে লক্ষ্য করা গেছে যে আম আদমি পার্টির জয়ের পর খোদ বাংলার রাজধানী কলকাতাতে পতাকা, স্লোগান সহ মিষ্টি বিতরণ করেছেন বহু মানুষ। সেই জমায়েত থেকেই দাবি উঠেছে যে আসন্ন রাজ্যের পৌর নির্বাচনে আপ বাংলায় প্রার্থী দেবে। সে ক্ষেত্রে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের ভোট ভাগ হলে তা যে শাসকদলের পক্ষে বিপজ্জনক হবে, তা বলাই বাহুল্য। খবরে প্রকাশ, সেকারণেই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূল দলের একাধিক নেতা এহেন সংবাদে ভুরু কুঁচকেছেন। এদিকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরাও যেন এ সংবাদে ধন্দে পড়েছেন। কারণ আপ এবং তৃণমূল কংগ্রেস দুদলেরই নির্বাচন কৌশলী হলেন আবার প্রশান্ত কিশোর। সেক্ষেত্রে দু’দলের সম্মুখ সমর হবার কথাই নয়। যদিও দিল্লি জয়ের পর দেশজুড়ে ওঠা তাঁদের পক্ষের হাওয়াকে আপ বাগে আনতে চাইছে বলেই সংবাদ সংস্থার খবরে প্রকাশ।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *