ABN News

রাজ্যে অনুষ্ঠিত হল ওয়েস্ট বেঙ্গল আর্টিস্টস ফোরামের নির্বাচন

রাজ্যে অনুষ্ঠিত হল ওয়েস্ট বেঙ্গল আর্টিস্টস ফোরামের নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিনিধি, এবিএন :- উপ-নির্বাচনে তিনটে আসন হারাবার পর বিজেপি ছাড়ার হিড়িক উঠেছিল। মুকুল রায়ের সাধের উত্তর ২৪ পরগণার ব্যারাকপুর মহকুমা সহ রাজ্যের বহু জেলার পঞ্চায়েত ও পুরসভাগুলিও ধরে রাখতে পারেনি বিজেপি। যদিও মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষ থেকে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ গত দু’বছর টানা তোতাপাখির মত আউড়ে যাচ্ছেন যে তৃণমূল কংগ্রেসের শতাধিক বিধায়ক নাকি তাঁদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। অর্থাৎ যে কোন মুহূর্তে তাঁরা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেবেন। যদিও হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা এরাজ্যে তেমন প্রকট হয়নি। এদিকে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া প্রাক্তন মেয়র তথা বিধায়ক তথা মন্ত্রী তথা মমতা ব্যানার্জির একান্ত ঘনিষ্ঠ শোভন চট্টোপাধ্যায় আদৌ বিজেপিতে না তৃণমূলে তা নিয়ে ধন্দ কেন্দ্রের শাসকদল।
এমতাবস্থায় রাজ্যে অনুষ্ঠিত হল ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচারস আর্টিস্টস ফোরামের নির্বাচন। খবরে প্রকাশ, সাতটি পদের জন্য ৩৭জন নেমেছিলেন লড়াইয়ে। এদের কেউই সরাসরি রাজনৈতিক বিভাজনের কথা স্বীকার না করলেও, বাস্তবে লড়াই ছিল তৃণমূল-বিজেপি বামেদের মধ্যে।

সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি পদে আগেই নির্বাচিত হয়েছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। এদিকে কার্যকরী সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর এবং বাকি পদগুলির জন্য রবিবার ভোটাভুটি হয়েছে টান টান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে। গতকাল ভোটের ফল প্রকাশ হতে দেখা যায়, প্রসেনজিৎ সমর্থিত শংকর চক্রবর্তী জিতেছেন ওই পদে। তাঁর কাছে হেরেছেন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ভরত কল, গেরুয়া শিবিরের অঞ্জনা বসু ও অভিনেতা পার্থসারথি দেব। যদিও ফল প্রকাশের পর এক সাক্ষাৎকারে শংকর প্রসেনজিতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পর স্বীকার করে নেন যে তাঁকে ভালই বেগ দিয়েছেন ভরত। এদিকে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বামপন্থী পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল পন্থী সোহম। জিতেছেন অভিনেতা জিৎও। সাধারণ সম্পাদক পদে জিতেছেন অরিন্দম গাঙ্গুলী। এই পদের মতই বিজেপি সমর্থক শর্বরী মুখোপাধ্যায় হেরেছেন শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় এবং তৃণমূল ঘনিষ্ঠ সপ্তর্ষি রায়. সহ-সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন রানা মিত্র ও দেবদূত ঘোষ। কার্যকরী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন কুশল চক্রবর্তী, জুন মালিয়া, সাগ্নিক, দিগন্ত বাগচী ও সোনালী চৌধুরী। এই পদগুলোতেও সুবিধা করতে পারেননি বিজেপির সক্রিয় সদস্য অনিন্দ্য পুলক কৌশিক ও লামারা।

এদিকে নির্বাচনের ফল প্রকাশ হবার পর নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক অরিন্দম সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে তাঁরা রাজনৈতিক লড়াই হতে দেননি। এবারে আর্টিস্ট ফোরামের নির্বাচন কোন দল দেখে হয়নি, হয়েছে প্রার্থী দেখে। প্রসঙ্গত বেশ কিছুদিন ধরেই টলিপাড়াতে রাজনীতির অনুপ্রবেশ নিয়ে জলঘোলা চলছিল। জয় ব্যানার্জি, জর্জ বেকার প্রমুখের মত বিজেপি সদস্যরা শাসকদলের ক্ষমতায়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। একদিন আগেও বিজেপি রাজ্য কমিটির অন্যতম সদস্য জয় ব্যানার্জি অভিযোগ করেছিলেন যে শাসক দলের প্রভাবেই তিনি তাঁর জনপ্রিয়তা বা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছেন না। টলিপাড়ার ছবিতে বিগত লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই এহেন ক্ষোভ অন্য যাঁদের মুখে শোনা যাচ্ছিল, এমন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা বেশ কয়েকজন মিলে সরাসরি বিজেপিতে যোগদান করেন। অন্যদিকে টলিপাড়ার দখল নিতে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও তার ভাই স্বরূপ বিশ্বাস বিশেষ ভূমিকা নিয়েছেন বলে দাবি উঠেছিল যদিও এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সকলেই প্রায় এক বাক্যে বলেছেন যে আর্টিস্ট ফোরামের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার হয়েছে সে প্রার্থীর মুখ দেখে রাজনৈতিক পরিচিতি দেখে নয়।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *