ABN News

ফের শুভ্রাংশু রায় ও রাজা দত্ত তৃণমূলে – জল্পনা ওড়ালেন বিধায়ক স্বয়ং

ফের শুভ্রাংশু রায় ও রাজা দত্ত তৃণমূলে – জল্পনা ওড়ালেন বিধায়ক স্বয়ং

নিজস্ব প্রতিনিধি, এবিএন :- বিজপুরের বিধায়ক তথা বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। প্রথমে তৃণমূলেরই একাংশ এই দাবি করেছিল। সেই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে শহর তৃণমূল কংগ্রেস এবং জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কর্তাদের কাছে কিছুদিন আগেও এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তাঁদের জবাব ছিল, ‘এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কেবল মমতা ব্যানার্জি।’ তবে জল্পনা জারি আছে এখনো।প্রসঙ্গত, গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বীজপুরে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোটের পরিসংখ্যান জানার সঙ্গে সঙ্গে শুভ্রাংশু রায়-এর ভূমিকা নিয়ে নিঃসন্দেহ হয়ে দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে বিবৃতি দেন, ‘দলের সাথে গদ্দারি করার জন্য শুভ্রাংশুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

এই ঘোষণার পরপরই সমগ্র বীজপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত কার্যালয় বিজেপি কর্মীরা দখল করে নেন আর তারপরেই এখানকার দুই পুরসভা অর্থাৎ কাঁচরাপাড়া ও হালিশহর পৌরসভার বেশিরভাগ কাউন্সিলর বিজেপিতে যোগদান করেন শুভ্রাংশু রায়ের হাত ধরে দিল্লিতে গিয়ে। সেই সময় হাতেগোনা বিজপুরের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দিনমানেও পথ চলতে ভয় পেয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় থাকা সত্বেও। কাঁচরাপাড়ার হাতেগোনা কয়েকজন সে সময় জেলা নেতৃত্বের ডাকে কাঁচরাপাড়ার এক নেত্রীর বাড়িতে সভা করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সভায় যোগদান করতে এসে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের সাথে অবরুদ্ধ করা হয় রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, দলের শীর্ষ নেতা তাপস রায়, মন্ত্রী সুজিত বসু, নির্মল ঘোষ প্রমুখকে। প্রশাসনের সহযোগিতায় সেদিন কোনমতে সভা করে তাঁরা ফিরে যান। সেদিনের পর থেকে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বর বেশিরভাগকেই নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে চলতে হয়েছে। সেই দুর্দিন কাটাতে মাস দুয়েক সময় লাগে। স্থানীয় নেতৃত্ব এরপর করেছে মমতা ব্যানার্জীর সভা, করেছে মহামিছিল। দলে ফিরিয়ে এনেছেন বিজেপিতে চলে যাওয়া কাউন্সিলরদের, পুনর্দখল করেছেন নিজেদের কার্যালয়। ভুক্তভোগী তথাকথিত তৃণমূল নেতারা সেই দুর্দিনের কথা ভুলতে রাজি নন। বিশেষত মুকুল রায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে তৃণমূলের যে হাল হয়েছিল বিগত লোকসভা নির্বাচনে, তার পাশাপাশি মুকুল-শুভ্রাংশু তৃণমূল সুপ্রিমো সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছেন তাতে এখনো চূড়ান্ত ক্ষুব্ধ সেই দুর্দিনের তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা। তাহলে এহেন রটনা কেন? যদিও একটি সূত্রের খবর, বিজেপি থেকে ইতিমধ্যে ফিরে আসাদের একাংশ শুভ্রাংশু তৃণমূলে ফিরে এলে খুশি হবেন বলেই জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে দাবি, তথাকথিতরা এক সময় মুকুল-শুভ্রাংশুর আশেপাশে ঘোরাফেরা করতেন। শুভ্রাংশু’র পাশাপাশি হালিশহরের বিজেপি নেতা রাজা দত্ত সম্পর্কেও একই জল্পনা শুরু হয়েছে। যাতে ইন্ধন জুগিয়েছেন খোদ হালিশহরের পুরপ্রধান অংশুমান রায়। গত দুদিন আগে হালিশহর পৌরসভায় স্থায়ী হওয়া এবং মাইনে বাড়ানোর দাবিতে সাফাই কর্মীদের আন্দোলন ছত্রভঙ্গ হওয়ার পরে এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকদের অংশুমান তেমন কথাই বলেন রাজা দত্ত সম্পর্কে। উপপ্রধান রাজা দত্ত অবশ্য তাঁর বিজেপি ছাড়ার সম্ভাবনা ফুৎকারে উড়িয়ে দেন এবং অংশুমানের বিরুদ্ধে পাল্টা বক্তব্যে তিনি সাফাই কর্মীদের সমর্থন করেন।
দলবদলের ব্যাপারে বিধায়ক শুভ্রাংশু’র বক্তব্য খুব পরিষ্কার। তিনি সাফ জানিয়েছেন, শাসক দলের পক্ষ থেকে তাঁকে কালিমালিপ্ত করার প্রচেষ্টা হিসাবেই তাঁর দলবদলের ব্যাপারে গল্প ফেঁদে প্রচার করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে একাধিক পত্র-পত্রিকাকে শাসকদল কাজে লাগাচ্ছে বলেও তিনি পাল্টা অভিযোগ করেছেন কিছুক্ষণ আগেই

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *