ABN News

করোনা ভাইরাস (#COVID19 ) সংক্রমণ সম্পর্কে কয়েকটি আবশ্যকীয় তথ্য – জানালেন সি এম আর আই স্ট্রোক কেয়ার এর চিকিৎসক ড.কল্লোল কে দে

করোনা ভাইরাস (#COVID19 ) সংক্রমণ সম্পর্কে কয়েকটি আবশ্যকীয় তথ্য – জানালেন সি এম আর আই স্ট্রোক কেয়ার এর চিকিৎসক ড.কল্লোল কে দে

দ্যা রেগুলার :- করোনা ভাইরাস সংক্রমণ সম্পর্কে কয়েকটি আবশ্যকীয় তথ্য-বর্তমানে নেট দুনিয়া তোলপাড় করোনা ভাইরাস সম্পর্কে অনেক অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক খবর নিয়ে। এই সময় আপনাদের কয়েকটি প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে জানিয়ে দিই ব্যাপারটা আসলে কী, বর্তমানে বিশ্বের সঠিক পরিস্থিতি এবং কী আপনাদের করা উচিত আর কী অনুচিত।
👉সঠিক তথ্য কে বা কাদের থেকে পাওয়া যাবে?
আমি তথ্যের ও পরামর্শের জন্য নির্ভর করেছি আমার বিশ্বাসযোগ্য ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস ও পাবলিক হেলথ বিভাগ, ইংল্যান্ড, প্রেসিডেন্ট রয়াল কলেজ অফ ফিজসিয়ান্স, লন্ডন এবং আরও কয়েকটি পেশাদারী সূত্রের ওপর।👉COVID-19 এবং করোনা ভাইরাস কী?
COVID-19 (করোনা ভাইরাস ডিজিজ ২০১৯) একটি বিশেষ ভাইরাস সংক্রমণজনিত অসুখ। ভাইরাস টি র নাম SARS-CoV-2, 2019 নভেল করোনা ভাইরাস । এটির প্রকোপ প্রথম দেখা যায় চীন দেশের উহান প্রদেশে ২০১৯ সালের শেষের দিকে। তারপর এটি খুব তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলিতে। এই রোগে মানুষের ফুসফুস ও শ্বাসযন্ত্র আক্রান্ত হয়।এই ভাইরাসের গোলাকার কোষে একটিমাত্র বড় RNA সূত্র কয়েকপ্রকার প্রোটিনের আবরণে ঢাকা থাকে। তার ভেতর এক রকম প্রোটিন খোঁচা খোঁচা কাঁটার (স্পাইক) মতো ভাইরাসের কোষের গা থেকে বেরিয়ে থাকে। যা আক্রান্ত ব্যাক্তির ফুস্ফুসের কোষের সঙ্গে ভাইরাসকে আটকে যেতে সাহায্য করে। এই রোগ হাঁচি কাশির মাধ্যমে এক জন থেকে আরেকজনের শরীরে সংক্রমিত হয়। সাম্প্রতিক খবরের জন্য দেখুন https://multimedia.scmp.com/widgets/china/wuhanvirus/

👉এ পর্যন্ত বিশ্বে আক্রান্ত হয়েছেন কতো জন?
১৮ই মার্চ ২০২০, পর্যন্ত মোট ১,৯১,৬৪৬ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তার ভেতর মৃত্যু ঘটেছে ৭৮৬১ জনের ও ৮১,৪৭৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।👉COVID-19 রোগ ছড়ায় কি ভাবে?এই ভাইরাসের উৎস এখনও সঠিক জানা যায় নি। সম্ভবতঃ বাদুড় বা প্যাঙ্গোলিনের থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়েছে। সাধারণ সর্দিকাশির মতোই এটি এক মানুষ থেকে অপরে ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে যখন একজন আক্রান্ত ব্যক্তি একজন সুস্থ মানুষের কাছে হাঁচেন বা কাশেন। চিকিৎসকেরা এও মনে করছেন যে হাঁচি কাশির সময় নির্গত ভাইরাস ভর্তি বাস্পকণা যেখানে পড়ে সেখানে কেউ হাত দিলে এবং সেই হাত মুখ, নাক, চোখ ইত্যাদি শরীরের খোলা জায়গায় লাগলে তা থেকেও অসুখ ছড়াতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে এই ভাইরাসজনিত অসুখ বেশী ছড়ায় যখন তার উপসর্গগুলি উপস্থিত থাকে। যদিও উপসর্গবিহীন অবস্থায় রোগ যে একেবারেই ছড়াবে না তা বলা যায় না।👉জনসংখ্যা ও এই ভাইরাসঘটিত রোগের সংক্রমণের হার কি?আক্রান্তের হারঃ ৩০-৪০%
সংক্রমিতের তুলনায় মৃত্যুর হারঃ ৩-৪%
রোগের উন্মেষ কালঃ সাধারণত ৪-১৪ দিন, তবে তা ২৪ দিন পর্যন্তও হতে পারে👉সময়কালঃচিন কর্তৃক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানানো – ৩১/১২/২০১৯
আমেরিকার সিয়াটলে প্রথম দেখা যায় – ১৫/০১/২০২০
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দ্বারা এই অসুখকে অতিমারী ঘোষণা – ১১/০৩/২০২০
আমেরিকায় জরুরী অবস্থা জারি – ১২/০৩/২০২০👉COVID-19 সংক্রমণের লক্ষণ কি কি?এই রোগের লক্ষণগুলি সংক্রমণের কয়েকদিন পরে রোগীর শরীরে দেখা দেয়। আবার কিছুদিন পরেও দেখা দিতে পারে শারীরিক তারতম্য অনুযায়ী।
লক্ষণগুলি হলঃ
– জ্বর (৪৫% রোগীর ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থাতেই, আর ৮৫% জনের ক্ষেত্রে অসুখের পরের দিকে)।
– কাশি (৬৫% থেকে ৮০% রোগীর ক্ষেত্রে)
– শারীরিক ক্লান্তি ও অবসাদ
– নিঃশ্বাসের কষ্ট (২০% থেকে ৪০% রোগীর ক্ষেত্রে)
– মাংসপেশিতে ব্যথা
– পেট এবং পৌষ্টিক তন্ত্রের গণ্ডগোল (১০% রোগীর ক্ষেত্রে)
– শ্বাসযন্ত্রের উপরিভাগের কষ্ট (১৫% রোগীর ক্ষেত্রে)বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই লক্ষণগুলি মৃদুভাবে দেখা যায়। কারোর আবার প্রথমদিকে কিছুই থাকে না। কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে সাংঘাতিক লক্ষণ সমূহ, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট এমনকি মৃত্যু ঘটতে দেখা যায়। এটি বয়স্ক ব্যাক্তি এবং যাদের অন্য শারীরিক সমস্যা আছে তাদের কাছে মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি কম মারাত্মক।

👉করোনা ভাইরাসের রোগ লক্ষণ দেখা দিলে কি করা উচিত?যদি জ্বর বেশী থাকে এবং বুকে পিঠে হাত দিলে গরম বোধ হয় ও বারবার কাশি হতে থাকে তাহলে বাড়ি থেকে বেরবেন না।
যদি লক্ষণ না থাকে এবং আপনি বাড়িতে থাকেন, তাহলে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন নেই।👉বাড়িতে কতো দিন থাকবেন?যদি আপনি বাড়িতে অন্যদের সঙ্গে থাকেন, তাহলে প্রথম ব্যাক্তির রোগ লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার দিন থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত কেউ বাড়ির বাইরে বেরবেন না। সঙ্গে যদি কোন সত্তর বছর বা তার বেশী বয়সের কোন লোক, গর্ভবতী মহিলা এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি থাকে, তাহলে তাদের আলাদা করে কোথাও ১৪ দিনের জন্য রাখতে হবে। যদি একসঙ্গে অনেকে থাকেন, তাহলে পরস্পরের থেকে যতটা সম্ভব দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
👉আমাদের কি করা উচিত এবং অনুচিত?
কি অবশ্যই করবেনঃ
– বারে বারে সাবান জল দিয়ে হাত ধুতে হবে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে।
– বাড়িতে ফিরে এবং কাজের জায়গায় কোন কাজ আরম্ভ করার আগে হাত ধুতে হবে।
– সাবান জল না থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যাবহার করুন।
– হাঁচি কাশির সময় নাক মুখ টিসু পেপার বা কনুই দিয়ে ঢাকা রাখুন হাত দিয়ে চাপা না দিয়ে। ব্যাবহার করা টিসু সঙ্গে সঙ্গে মুখ ঢাকা পাত্রে ফেলুন এবং হাত ধুয়ে ফেলুন।
– করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তিদের কাছাকাছি যাবেন না। – একান্ত প্রয়োজন ছাড়া সাধারণের যানবাহন যেমন, বাস, ট্রেন ইত্যাদিতে উঠবেন না।
– বাড়ি থেকে কাজ করা সম্ভব হলে তাই করুন।
– সিনেমা, থিয়েটার, রেস্টুরেন্ট, কোন অনুষ্ঠান এবং বড় জমায়েতে যাবেন না।
– ফোন এবং অন লাইন সার্ভিসের সাহায্য নিন এবং প্রয়োজন মতো আপনার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা সমুহের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
কি একদমই করবেন নাঃ
– হাত না ধুয়ে চোখ, নাক, মুখ স্পর্শ করবেন না।
– বাড়িতে আত্মীয় পরিজন ও বন্ধু বান্ধবের সমাগম পরিহার করুন।
👉জ্বর কমাবার জন্য বাড়িতে কি ওষুধ খাওয়া উচিত?
দিনে ১০০০ মিগ্রা প্যরাসিটামল ৩/৪ বার খাওয়া যেতে পারে, যদি না আপনার চিকিৎসক বলেন যে প্যরাসিটামল আপনার উপযুক্ত নয়। যদি ডাক্তারের পরামর্শ মতো Ibuprofen বা অন্য কোন স্টেরয়েড ছাড়া ব্যথা নিরোধক ওষুধ খেতে থাকেন, তা ডাক্তারের উপদেশ ছাড়া বন্ধ করবেন না।

👉সাত দিন পরেও যদি রোগের উপসর্গ থেকে যায়, তাহলে কি করা উচিত?
সাতদিন পরে যদি জ্বর না থাকে, তাহলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফেরা যেতে পারে। যদি তখনও জ্বর থাকে, তাহলে বাড়ি থেকে বেরনো উচিত নয়। যদি জ্বর নেই কিন্তু কাশি আছে , তাহলেও চিন্তার কারণ নেই – বাড়ি থেকে বেরনো যেতে পারে। সংক্রমণ চলে যাওয়ার পরেও কিছু সপ্তাহ কাশি থেকে যেতে পারে।👉কখন চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে যাওয়া উচিত?
যদি দেখেন আপনার শারীরিক অবস্থা বাড়িতে থাকার অনুপযুক্ত এবং সমস্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে অথবা সাত দিনেও আপনার অবস্থার কোন উন্নতি দেখা যাচ্ছে না, তাহলে চিকিৎসক বা হাসপাতালের শরণাপন্ন হতে হবে।
👉কোন পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজন আছে কি?
যদি আপনার ডাক্তার বা নার্স সন্দেহ করেন যে আপনি COVID-19 দ্বারা আক্রান্ত, তাহলে তাঁরা আপনার নাকের এবং মুখের ভেতর থেকে লালারস সংগ্রহ করে পরীক্ষা করতে পাঠাবেন। যদি কাশির সঙ্গে কফ ওঠে, তাহলে তাও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়ে থাকে। এই পরীক্ষাগুলি থেকে নিশ্চিত করা যাবে এটি COVID-19 ভাইরাস সংক্রমণ না অন্য কিছু। চিকিৎসক প্রয়োজন বুঝলে বুকের এক্সরে অথবা কম্পিউটেড টমোগ্রাফি (সিটি) স্ক্যানও করাতে পারেন ফুস্ফুসের অবস্থা জানার জন্য। 👉মাস্ক বা মুখোশ ব্যবহার করা কি উচিত?
বিশেষজ্ঞরা মুখোশ ব্যবহার করতে বলেন না যদি না আপনি আক্রান্ত হন অথবা করোনা ভাইরাস আক্রান্ত কারুর সেবা বা অন্য কারণে সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা থাকে।
👉কি করে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যেতে পারে?
প্রত্যেকেরই যথাযোগ্য ভূমিকা নেওয়া উচিত।
সামাজিক ব্যাবধান বজায় রাখাঃ
– পরস্পরের থেকে অন্তত তিন ফুটের দূরত্ব বজায় রাখা।
– শারীরিক সংস্পর্শ যেমন করমর্দন, জড়িয়ে ধরা, আলিঙ্গন করা চলবে না।
– মুখোমুখি আলাপ আলোচনার পরিবর্তে টেলি কনফারেন্সিং বা অন লাইনে কাজ করা।
এগুলি সত্তরোর্ধ্ব ব্যক্তি, দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ ব্যক্তি, গর্ভবতী মহিলা এবং কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্নদের ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে প্রযোজ্য।
স্বাস্থ্য বিধি পালনঃ
– ঘনঘন সাবান জলে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া।
– হাঁচি কাশির সময় মুখ টিসু পেপার বা কনুই ভাঁজ করে চাপা দিন।
– না ধোয়া হাত দিয়ে চোখ, নাক, মুখ না ছোঁয়া।
– অসুস্থ এবং যে ব্যক্তির হাঁচি কাশি হচ্ছে তাদের কাছে না যাওয়া।
– অসুস্থ অবস্থায় এবং উপযুক্ত বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে থাকুন।
– যে যে জিনিস বা তল বেশী স্পর্শে আসে, সেগুলি জীবানুমুক্ত করা প্রয়োজন।

👉যদি আপনার এলাকায় COVID-19 সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব ঘটে, তাহলে কি করবেন
নিজেকে সুস্থ রাখার উপায় হল ঘন ঘন হাত ধুয়ে ফেলা, অসুস্থ ব্যক্তির কাছে না আসা এবং নিজে গৃহবন্দী থাকা। এছাড়াও রোগ ছড়িয়ে পড়া রুখতে সরকারি নির্দেশাবলী মেনে চলা জরুরী। কোন জায়গায় বর্তমানে সংক্রমণ না থাকলেও পরে অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে।
একেক জায়গার নিয়ম ও নির্দেশাবলী এক নাও হতে পারে। যদি সরকারি ঘোষণা মোতাবেক ঘরে থাকার, লোকজনের এক জায়গায় জড়ো হওয়া এবং মেলামেশার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়, তাহলে তা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলা উচিত। কোন ব্যক্তির সংক্রমণ মারাত্মক এবং ঝুঁকিপূর্ণ না হলেও তাঁর থেকে অন্যের ছোঁয়াচ লাগার সম্ভাবনা থেকেই যায়। মানুষজনকে পরস্পরের থেকে দূরে রাখা এই রোগের ছড়িয়ে পড়া রুখতে সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি।
আর আপনারা যদি এ নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কিত হয়ে থাকেন, তাহলে মনে রাখবেন বেশিরভাগ লোকের মারাত্মক সংক্রমণ বা জীবনহানির আশঙ্কা কম।
আতঙ্কিত হবেন না। শান্ত থাকুন। আর সমাজের সকলের ও আপনার পরিজনের মঙ্গলের জন্য স্বাস্থ্য উপদেশ মেনে চলুন।

সি এম আর আই স্ট্রোক কেয়ার এর ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *